লাইফ স্টাইলস্বাস্থ্য

ওজন কমানোর কার্যকরী উপায়সমূহ

মোটা হওয়ার ঝামেলা কেউ পোহাতে চায় না। মোটাসোটা ব্যক্তির চলেফেরায় অনেক কষ্টকর হয়ে যায়। তাছাড়া একজন স্থূলকায় ব্যক্তির চেয়ে একজন কম ওজনের ব্যক্তি কায়িক পরিশ্রম বেশি করতে পারে এবং হালকাও বোধ করে। তাই লোকজন ওজন কমানোর জন্য কতই না পেরেশানি করে; বিভিন্ন টিপস ও উপায় খুঁজতে থাকে। তবে ওজন কমানোর জন্য পরীক্ষিত কিছু উপায় অবলম্বন করলে এই দুশ্চিন্তা থেকে মুক্ত হওয়া যায়। নীচে ওজন কমানো নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। 

সূচিপত্র

শরীরের ওজন কমানোর উপায়

মোটা হয়ে যাচ্ছেন। ঠিক মতো কাজে মনোযোগ দিতে পারছেন না। চিন্তা করছেন ওজন কমাতে কি কি যায়? আপনার মনে উদ্রেক হওয়া প্রশ্নের উত্তর নীচে খুব সুন্দর করে দেওয়া হলো:

১. চুইংগাম খাবেন

কথাটি শুনতে অবাক হলেন? অবাক হওয়ার কিছু নাই। চিনি ছাড়া চুইংগাম মিষ্ঠি এবং নোনতা খাবারের ইচ্ছা কমায় এবং ক্ষুধার আগ্রহ কমিয়ে আনে। 

২. গরম পানি পান করুন

লেখাটা একটু অদ্ভূত লাগলেও গরম পানিও ওজন কমায়। গরম পানি শরীরের টক্সিন বের করে দেয় ও অস্বাস্থ্যকর ডায়েটের ফলে অতিরিক্ত মেদ জমা প্রতিরোধ করে।

৩. প্রতিদিন সকালে বাইরে বের হন

ওজন কমাতে সকালের বাতাস শরীরের উপর খুব ভালো প্রভাব ফেলে। শরীরটা খুব তরতাজা রাখে। অলসটাকে একদম ঝেড়ে ফেলে দেয় সকালের আবহাওয়া। তাই সম্ভব হলে সকালের মুক্ত পরিবেশে হাঁটাহাটিঁর অভ্যাস গড়ে তুলুন। 

. মাঝে মাঝে না খেয়ে তথা উপবাস থাকার চেষ্টা করুন

মাঝে মাঝে না খেয়ে থাকলে অথবা দিনের বেলায় খাবারে গ্রহণে দীর্ঘক্ষণ বিরতি নিলে ওজন কমার সম্ভাবনা থাকে। এ সম্পর্কে বেশ কয়েকটি গবেষণা বলছে, স্বল্প-মেয়াদী বিরতিহীন উপবাস ২৪ সপ্তাহ ব্যপ্তি করলে বেশি ওজনের ব্যক্তিদের ওজন কমে যায়। 

৫. খাবারের ডায়েট  নিয়ন্ত্রণ ও ট্রাকিং করুন

ওজন কমাতে চাইলে প্রথমেই খাবারের বিষয়টা মাথায় রাখতে হবে। সারাদিন কি খাচ্ছেন, কোন ধরনের পানীয় পান করছেন সে সম্পর্কে সচেতন হওয়া খুবই জরুরী। এ কাজটা করা খুব সহজ না তবে অনলাইন ফুড ট্র্যাকারের মাধ্যমে খাবার নিয়ন্ত্রণে আনতে পারবেন।

৬. মনের মতো খান

টাইটেলটা দেখে একটু অবাক হচ্ছেন তাই না? আসলে মন যেটা বলে সেই খাবারই খেয়ে নেন। অনেক সময় মন বিভিন্ন রকম কথা বলে এখানে বা ওইখানে গেলে ভালো খাবার খেতে পারবো বা ভাল খাবার পাওয়া যায়। আপনার মন যেটা বলে সেটাই করেন। এতে করে মানসিক প্রশান্তি মিলবে। মানসিক প্রশান্তি ছাড়া আর কী আছে বলুন?

৭. খাবারের মেন্যু সঠিকভাবে নির্বাচন করুন

কর্মব্যস্ততার সময়ে খাবারের সময়ে খাবারের মেন্যু সম্পর্কে কেউ গুরুত্ব দেয় না। দ্রুত গতিতে কোনো কাজ করার জন্য খাবারের প্রতি খেয়াল থাকে না। কী খাচ্ছেন এটা ভুলেই যান। তবে ওজন কমাতে খাবার খাওয়ার জন্য উপযুক্ত পরিবেশ আর মনোমুগ্ধকর সব খাবার খাবারের মেন্যুতে রাখেন।

৮. ধীরে ধীরে খান

আপনি যে খাবার খেলেন আপনার খাওয়ার পূর্ণ সংকেতটা মস্তিষ্কে যেতে যথেষ্ট সময় নেয়। কিন্তু আপনি যখন জোরে জোরে খাবার খান তখন মস্তিষ্ক পূর্ণ খাবারের সংকেত পায় না। এতে করে অনেক খাবার আপনি খেয়ে নেন। 

আর ধীরে ধীরে খেলে মস্তিষ্ক বুঝতে পারে পেট ভরে গেছে আর খাওয়া চলবে না। চিবানো অথবা ধীরে ধীরে খাবার খাওয়া মস্তিষ্ককে পূর্ণ সংকেত পাঠাতে সাহায্য করে। পূর্ণ সংকেত পাঠালে আপনার অতিরিক্ত খাওয়া কমাতে সহায়তা করতে পারে।

৯.পছন্দের খাবারগুলো বিবেচনা করে খান

যেসব খাবার পুষ্টিতে ভরা এমন খাবারগুলো খাবারের মেন্যুতে যোগ করেন। এবং যেসব খাবার খেলে মুহুর্তকালের জন্য তৃপ্তি না দিয়ে ঘন্টাখানিকের মতো প্রশান্তি দেবে সেসব খাবার খান। ধরুন আপনি এমন খাবার খেলেন যেটা খাওয়ার পর আবার খেতে মন চাইলো বা ক্ষুধা লেগেই থাকলো এসব খাবার খাবেন না। 

১০. সকালে প্রোটিন জাতীয় খাবার খান

নিয়মিত প্রোটিন জাতীয় খাবার খেলে ক্ষুধার প্রোটিন হরমোনগুলো ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণ করে। ফলে লোকেরা পূর্ণতা বোধ করতে পারে। এটি বেশিরভাগই ক্ষুধা হরমোন ঘেরলিন হ্রাস এবং তৃপ্তি হরমোন পেপটাইড ওয়াইওয়াই, জিএলপি-১, এবং কোলেসিস্টোকিনিন ট্রাস্টেড উৎস বৃদ্ধির কারণে হয়।

অল্প বয়স্কদের উপর এক গবেষণায় দেখা যায়, উচ্চ-প্রোটিন প্রাতঃরাশ বা সকালে  খাওয়ার হরমোনীয় প্রভাবগুলো কয়েক ঘন্টা স্থায়ী হতে পারে। উচ্চ প্রোটিনের জন্য সকালে ডিম, ওটস, বাদাম এবং বীজ বাটার, কুইনোয়া পোরিজ, সার্ডাইনস এবং চিয়া বীজের পুডিং খেতে পারেন।

১১. চিনি এবং পরিশোধিত কার্বোহাইড্রেট কম খান

অতিরিক্ত গ্লুকোজ রক্তে প্রবেশ করে এবং ইনসুলিন হরমোন উৎসাহিত করে, যা অ্যাডিপোজ টিস্যুতে ফ্যাট স্টোরেজকে উৎসাহ দেয়। এটি ওজন বাড়াতে অবদান রাখে। চিনিযুক্ত খাবার যথাসম্ভব পরিহার কর‍তে হবে। এজন্য যখনই সম্ভব হয় মিষ্টিজাতীয় খাবারের পরিবর্তে ভালো খাবার খাবেন। যেমন ধরেন পাউরুটির পরিবর্তে গমের রুটি, উচ্চ চিনিযুক্ত স্ন্যাকসের পরিবর্তে ফল, বাদাম এবং ভেষজ চা খেতে পারেন।

১২. প্রচুর পরিমাণে ফাইবার বা আঁশ জাতীয় খাবার খান

ফাইবার সমৃদ্ধ খাবার অর্থাৎ যেগুলোতে প্রচুর পরিমাণে আঁশ থাকে যেগুলো হজম হয় না। কিন্তু এসব খেলে পেট ভরা ভরা মনে হয়। অতিরিক্ত খাবার খেতে আর মনও চাই না। তাই এসব খাবার ওজনও কমায়। ফাইবার সমৃদ্ধ খাবারগুলোর মধ্যে রয়েছে: গমের রুটি, গমের পাস্তা, বার্লি,  রাই, ফল, শাকসবজি, মটরশুটি, শিম, ডাল এবং বাদাম

১৩. অন্ত্র ব্যাকটেরিয়া ভারসাম্যপূর্ণ রাখুন

পাকস্থলী থেকে পায়ু পর্যন্ত নালীকে অন্ত্র বা নাড়িভুঁড়ি বলে। মানুষের অন্ত্রে ট্রিলিয়ন ট্রিলিয়ন ব্যাকটেরিয়ার বাস। একটা সুস্থ লোকের দেহে বিভিন্ন বৈচিত্রের ব্যাকটেরিয়া থাকে অপরদিকে অসুস্থ লোকের থাকে না। অন্ত্রে ভালো ব্যাকটেরিয়া সুস্থ রাখতে সহায়তা করে। অন্ত্রে ভালো ব্যাকটেরিয়া থাকলে ফ্যাট ও ওজন কমে যায়। তাই অন্ত্রে ব্যাকটেরিয়া ভারসাম্য রাখার জন্য বাদাম, শিম, কলা, আম, পেঁপে, পালং শাক, দই, চা, মাছ ইত্যাদি খাবেন। 

১৪. প্রোবায়োটিক খাবার খান

আমাদের দেহে কোটি কোটি ব্যাকটেরিয়া থাকে। কোনোটি আমাদের দেহের উপকার করে আবার কোনোটি ক্ষতি করে। আমাদের উপকার করা ভালো ব্যাকটেরিয়াগুলোকে প্রোবায়োটিক বলে৷ প্রোবায়োটিক খাবার ওজন নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে। প্রোবায়োটিক খাবার হলো যেসব খাবার জীবন্ত ব্যাকটেরিয়া বহন করে সেগুলো। এসব খাবারের মধ্যে রয়েছে টক দই, আচার, ডার্ক চকলেট ও পনির ইত্যাদি।

১৫. চাপ কমান

চাপ অ্যাড্রেনালিন এবং করটিসোলের মতো হরমোন নিঃসরণ করে যা ক্ষুধা হ্রাস করে। তবে সবসময় চাপে থাকলে কর্টিসল নামক হরমোন ভিসারাল ফ্যাটকে বাড়িয়ে তোলে। প্রভাবিত করতে পারে যা আপনাকে প্রয়োজনের চেয়ে বেশি খাবার খেতে বাধ্য করে। 

মানসিক চাপ কমানোর কয়েকটা পদ্ধতিঃ

  • মেডিটেশন বা ধ্যান করা
  • যোগব্যায়াম করা।
  • বাইরে কিছু সময় ব্যয় করা যেমনঃ হাঁটা বা বাগান করা। 

১৬. কার্ব জাতীয় খাবার খান

আমাদের অনেকের মধ্যে ধারণা আছে কার্ব বা কার্বোহাইড্রেট জাতীয় খাবার ওজন বাড়ায়। কিন্তু কার্বও ওজন কমাতে পারে। ভালো কার্ব তথা উচ্চ ফাইবার সমৃদ্ধ খাবার যেমন ছোলা, মিষ্টি আলু, সেদ্ধ যব, ওটমিল, বাদামি চাল খেতে হবে। এসবে উচ্চ ফাইবার যুক্ত হওয়ার রক্তে শর্করার মাত্রা স্থিতিশীল রেখে স্বাস্থ্য নিয়ন্ত্রণ করে।

১৭. ছোট প্লেটে খাবার খান

ছোট প্লেট ‍আপনার ব্রেনের সাথে খেলা করে। আপনি অনেক বেশি খাচ্ছেন  এই ধারণাটা আপনার ব্রেনকে জানিয়ে দেয়। এভাবে আপনি কম খাবার খেয়ে ব্রেনকে ধোকা দিতে পারবেন যে আপনি অনেক বেশি খেয়ে ফেলছেন। এতে করে আপনার কম খাওয়াও হবে এবং অস্বাস্থ্যকর খাবারও এড়িয়ে যেতে পারবেন। 

১৮. খাওয়ার সময় ইলেকট্রনিকস ডিভাইস ব্যবহার করবেন না

ইলেকট্রনিকস ডিভাইস যেমন টিভি, মোবাইল মানুষের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। কোনো নির্দিষ্ট সময় নাই, যখন যেখানে ইচ্ছা তখনই বিশেষকরে ফোনের ব্যবহারে মেতে থাকি। সাধারণ মানুষের মধ্যে অনেকের মাঝেই খাবার খাওয়ার সময় টিভি বা ফোনে ভিডিও অথবা গেম খেলার অভ্যাস আছে। 

ভিডিও দেখার সময় খাবার খেলে কতটুকু আপনি খেয়েছেন বুঝতে পারবেন না। ভিডিও দেখার নেশায় খাবারের প্রতি টানও চলে আসবে। ধীরে ধীরে খাবার খেলে অনেক বেশি খাওয়া যায়। খাবার খাওয়ার সময় মনোযোগ না  থাকলে শরীরে  দিনে দিনে খারাপ প্রভাব ফেলে। 

১৯. খাবার তৈরির পরে অতিরিক্ত খাবার ফ্রিজে রাখবেন না

খাবার রান্না শেষ হলেই খাবারের প্রতি ঝোঁক চলে আছে। চোখের আড়াল হলেই মনের আড়াল। বাড়িতে সুস্বাদু খাবার থাকলেই প্রথমে ওদিকেই চোখ যায়। যথাসম্ভব খাবার আর আপনার মধ্যে দূরত্ব বাড়াবেন। একাজটা করা যদিও সহজ না তবে মহিলাদের ক্ষেত্রে খাবার পরিবেশন হয়ে গেলেই বাকি খাবার আড়ালে রাখবেন বা ফ্রিজে রেখে দিবেন। বিজ্ঞান বলে খাদ্য আপনার কাছ থেকে যত দূরে সরে রাখবেন দৃষ্টিশক্তি তত দূরে থাকবে। 

২০. লাল প্লেটে অস্বাস্থ্যকর খাবার খান

ভাবছেন, লাল প্লেটে অস্বাস্থ্যকর খাবার খেলে কীভাবে ওজন কমে? কারণটা হলো লাল রংয়ের প্লেটে অস্বাস্থ্যকর খাবার তথা জাঙ্ক ফুড, ভাজাপোঁড়া জাতীয় খাবার খাওয়ার সময় খাবারগুলো চোখে পড়ে। এক গবেষণায় দেখা গেছে, লাল রংয়ের প্লেট কম খেতে সাহায্য করে। 

আমরা সাধারণত জানি, লাল রং সতর্কতাবার্তা বা ট্রাফিক এর ক্ষেত্রে ব্যবহার হয়। সর্বোপরি, সতর্ক দেওয়ার জন্য লাল রংয়ের ব্যবহার অধিক বেশি। অনেক গবেষণায় আসছে, অন্যান্য রংয়ের প্লেটে খাওয়ার চেয়ে লাল রংয়ের প্লেটে খাবার খেলে খাবার কম খাওয়া যায়। 

২১. বিভিন্ন কালারের খাবার ও  প্লেটে খাবার খান

রংয়ের তারতম্য ক্ষুর্ধাতভাব কমায়। প্লেট ও খাবারের রংয়ের উপর খাওয়া কমানো নির্ভর করে।  একই প্লেট ‍আর খাবারের রং একই হলে খাওয়ার পরিমাণটা কমে যায় আর প্লেট ও খাবারের রং এক হলে খাওয়ার পরিমাণটা অনেক বেড়ে যায়। তাই ওজন কমানো রংয়ের উপর অনেকটাই নির্ভর করে।

২২. খাওয়ার আগে পানি পান করুন

সুস্বাস্থ্য এবং ফিট ধরে রাখার জন্য পানি পানের কতটা গুরুত্ব তা আমরা সকলেই জানি। কিন্তু পানি পান ওজন কমাতেও দারুণ কাজ করে। শতভাগ ক্যালোরি মুক্ত পানি দেহের বিভিন্ন কোষে প্রয়োজনীয় পুষ্টি বহন করে এবং শরীর থেকে টক্সিন বের করে দেয়। 

গবেষণায় দেখা যায়, খাবারের আগে দুই কাপ পানি ক্ষুধার্তভাব কমায় এবং সাথে সাথে শরীরের বাড়তি ওজন কমাতে পারে। পাকস্থলী যখন বুঝতে পারে যে, পাকস্থলী ভরা তখন খাওয়া থামাতে মস্তিঙ্ককে সিগন্যাল দেয়। পানি পাকস্থলীতে জায়গা নেয়, পরিপূর্ণতার অনুভূতি জাগায় এবং ক্ষুধা কমিয়ে আনে। দিনের প্রধান তিন খাবারের আগে ফুল পেটে পানি খেলে ১.৭৬ পাউন্ড ওজন কমে যায়।  

২৩. ভালো করে ঘুমান

কম ঘুম ওজন এবং স্থুলতা বাড়ায়। কম ঘুমালে বিএমআই বা উচ্চ বডি ম্যাস ইনডেক্স এবং ওজন বাড়ানোর সাথে সংযু্ক্ত ঘুমের উপর অনেক কিছুই নির্ভর করে। রাতে সাত ঘণ্টার চেয়েও কম ঘুম এবং একটানা মানসিক চাপ ওজন বাড়িয়ে তুলতে পারে।

পর্যাপ্ত পরিমাণে না ঘুমালে ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণ করে এমন হরমোন এমনভাবে আপনাকে প্রভাবিত করে যে আপনি প্রয়োজনের চেয়ে বেশি ভাত খাবেন। এটি ঘ্রেলিন হরমোনের কারণে হয়ে থাকে। ঘ্রেলিন হরমোন চর্বি বৃদ্ধি করে। অনেক সময় ধরে বা কয়েকদিন না খেলে থাকলে খাবারের প্রতি আগ্রহ বেড়ে যায়। এভাবেও আমরা ওজন বাড়তে পারে।

২৪. ভারী ব্যায়ামের গুরুত্ব জানুন

ব্যায়াম শরীরের নিশ্চয়ই বেশ উপকারী। তবে কিছু কিছু ব্যায়াম শরীরের বাড়তি ওজন কমাতে সাহায্য করে। পেশী জাতীয় ব্যায়াম এনার্জি লেভেল বৃদ্ধি করে তোলে এবং প্রতিদিনের কাজগুলো অনেক সহজ করে দেয়। আপনি যত বেশি এনার্জি মোডে থাকবেন ততই যেকোনো কাজই সহজ হয়ে যাবে। আর অস্বাস্থ্যকর খাবার খেলেও অনেকক্ষণ ধরে দাড়িঁয়ে থাকলেও সক্রিয়ভাব থাকবে। 

এছাড়া কার্ডিও ব্যায়াম হার্ট রেট বাড়িয়ে তোলে। কার্ডিও ব্যায়াম হলো দৌঁড়ানো, হাঁটা, সাঁতার কাটা, সাইকেল চালানো ইত্যাদি জাতীয় ব্যায়াম। এ ব্যায়াম সকালে করাই ভালো। কেননা সকালের সময়টাতে রক্তে গ্লাইকোজেন (পুষ্টিজাত পলিস্যাকারাইড) কম থাকে। ফলে দেহে জমাকৃত চর্বি পুড়ে যায়।

শেষকথা

যেকোনো কাজের ফলাফল পেতে সময় নিতে হয়। আর ওজন কমানোর ক্ষেত্রে নিয়ম মেনে চলা খুব কষ্টের হয়। কিন্তু ডায়েট কন্ট্রোলে নিয়ে আসার আগে মাথায় রাখবেন, আমাকে ওজন কমাতে হবে। ওজন বেশি হওয়ায় এই এই সমস্যার মুখে পড়তে হচ্ছে। সমস্যার কথা মাথায় সেট করে রাখলে এগুলো আপনাকে রিমাইন্ড করে দিবে। আপনি তখন ওজন কমানোর জন্য নিজেকে কন্ট্রোলে রাখতে পারবেন। আর ওজন কমানোর জন্য উপরে যেসব বিষয়ে আলোচনা করা হয়েছে সেসব বিষয়ে মেনে চললে খুব তাড়াতাড়ি ভালো ফলাফল পাবেন বলে আশা রাখছি। আর এই আর্টিকেল ভালো লাগলে আপনার আশেপাশের যেসব বন্ধু ওজন কমাতে চায় তাদের নিকট ছড়িয়ে দিবেন। ভালো থাকবেন। ধন্যবাদ। 

সচারচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্নত্তোর

ওজন কমানোর জন্য রোজ/দিনে কতবার পুশ আপ করা প্রয়োজন? 

উত্তরঃ ৫-১০ মিনিট ধরে যতবার সম্ভব হয়।

কখন দৌড়ানো সবচেয়ে ভালো? 

উত্তরঃ সকাল বেলা দৌড়ানো সবচেয়ে ভালো।

আপেল খেলে কি ওজন কমে?

অবশ্যই আপেল খেলে ওজন কমে। কারণ আপেলে থাকা  ফ্লাভানয়েড পলিমারস  দেহের ওজন কমিয়ে দেয়।

রুটি খেলে কি ওজন কমে?

হ্যাঁ, রুটি ভাতের মতো কার্বোহাইড্রেট বা শর্করা জাতীয় খাবার হলেও রুটিতে ভাতের তুলনায় ফাইবার, প্রোটিন ও চর্বি কম থাকে। তবে পরিশোধিত রুটি তথা পাউরুটি, মিছরি, চিনি সমৃদ্ধ নয়, খেতে হবে গমের রুটি। তাহলেই/তবে কমবে ওজন। 

কি কি সবজি খেলে ওজন কমে?

সবজিতে অনেক পুষ্টিকর উপাদানে পরিপূর্ণ। বেশকিছু সবজি ওজন কমাতে বেশ ভালো ভূমিকা রাখে। তন্মধ্য সবুজ শাক,নিউট্রিয়েন্টস পাওয়ার হাউস খ্যাত সবুজ সবজি ব্রুকলি, ক্যালসিয়াম ও ফ্লোরাইড সমৃদ্ধ ফুলকপি, লেটুস পাতা, টমেটো, কম ক্যালরিযুক্ত মিষ্টি কুমড়া ও গাজর এবং ডিটক্সিফিকেশনের গুণে পূর্ণ শশা। তবে আলু, গাজর, বিট,ভুট্টা এগুলো বেশি পরিমাণে খাওয়া যাবে না। কারণ এসব সবজির শর্করা ওজন বাড়ায়।

কোন ফল খেলে ওজন কমে?

ভিটামিন, মিনারেল, অ্যান্টি অক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ ফল ওজন কমানোতে বেশ কার্যকরী।  সেসব ফলের মধ্যে মিনারেল সমৃদ্ধ তরবুজ, ভিটামিন সি ও কম ক্যালরিযুক্ত কমলা, কলা, ব্লুবেরি বা স্ট্রবেরি, ফ্লাভানয়েড সমৃদ্ধ ফল আপেল ও নাশপতি, মোনো-স্যাটিউরেটেড ফ্যাটি এ্যাসিড সমৃদ্ধ এ্যাভোকাডো, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ লিচু, প্রচুর পরিমাণে ধাতব উপাদান ও ভিটামিন সমৃদ্ধ পিচ ফল, আঙ্গুর, বেদেনা, পেপে, আনারস, সুবেদা অন্যতম। এমনিতেই আমরা ফল খেতে খুব পছন্দ করি তবে এসব ফল খেলে আপনার ভুড়ি কমে যাবে।

রোজায় কি ওজন কমে?

হ্যাঁ, রোজা রাখলে ওজন কমে যায়। রোজা রাখলে শরীরে থাকা অতিরিক্ত চর্বি গলে শরীরে শক্তি বাড়ায়। রোজা রাখলে দীর্ঘক্ষণ ধরে না খেয়ে থাকতে হয়। এসময় পরিপাকতন্ত্র বিশ্রাম পাই। রোজার দিন ছাড়া অন্য সময়ের মতো সবসময়  হজম করার কাজ করতে হয় না। কিন্তু রমজানে দীর্ঘ বিরতির পরে খেলে দেহে খাবার জমে থাকে না ফলে হজমের কাজ খুব ভালোভাবে হয়। এবং চর্বি জমে না থাকায় ওজনও কমে।

আনারস খেলে কি ওজন কমে?

হ্যাঁ, রুচিবর্ধক ফল আনারস খেলে ওজন কমে। আনারস ফাইবার বা তন্তুযুক্ত ফল হওয়ায় বেশি পরিমাণ খেলে পেট ভরে না এবং  চর্বিও যুক্ত হয় না। আনারসে থাকা থায়ামিন, বি১২, ফোলেট, তামা ও ফাইবার হজম ক্ষমতা বাড়ায়। 

তাছাড়া, আনারসে ব্রোমেইন নামে এনজাইম ওজন নিয়ন্ত্রণকারী হরমোন লেপটিনের ভারসাম্য রক্ষা করে। শরীরে প্রদাহ বাড়লে এই হরমোন ঠিকমতো কাজ করে না আর ঠিক তখনই আমাদের ওজন বাড়তে থাকে। তবে আনারস খেলে প্রদাহ কমে যাওয়ায় এই হরমোন ঠিকভাবে কাজ করতে শুরু করে। 

সকালে খালি পেটে কি খেলে ওজন কমে?

সকাল ও দুপুরের খাবারের মধ্যে অনেকখানি বিরতি থাকে।  হজমে ঠিক রাখাসহ শরীর সুস্থ রাখে এমন সব খাবার সকালে খাওয়া উচিত। সকালে উঠে কোনো খাবার খাওয়ার আগে বেশকিছু খাবার সকালের খাবার তালিকায় রাখতে পারেনঃ

  • অন্ত্রের সমস্যা নিয়ন্ত্রণে উপকারী পেঁপে ফল খেতে পারেন। 
  • তরমুজ খেতে পারেন। 
  • ফ্যাট হ্রাসকারী ডিম, ভেজানো ছোলা বুট খেতে পারেন। তবে ভেজানো ছোলা বুটের খোসা ফেলে দিয়ে খাবেন কেননা ছোলা বুটের ত্বকে ট্যানিন থাকে যা দেহের পুষ্টির শোষণকে বাঁধা দেয়।

কোন কোন খাবার খেলে ওজন কমে?

বার বার ক্ষুধা লাগা ওজন বাড়ানোর একটা কারণ তবে 

  • খাবারে প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার যেমন,প্রাণীজ প্রোটিনের মধ্যে মাছ, মাংস, ডিম, দুধ, দই, টার্কি মুরগী, শুঁটকী মাছ এবং উদ্ভিজ্জ প্রোটিনের মধ্যে আলু, ডাল, ওটস ইত্যাদি অল্প পরিমাণ খেলেই তৃপ্তি আসে এবং কম খাওয়ায় ওজনও কমে। এছাড়া দ্রুত হজমও হয়।
  • সুগার যুক্ত পানীয় যেমন কোকাকোলা, ফানটা, মিরিন্ডা, পেপসি পরিহার করা কেননা এগুলোতে থাকা চিনিএ মাধ্যমে আমাদের দেহে অতিরিক্ত ক্যালরি যায় এবং এতে করে ওজনও বাড়ে। 
  • বেশি বেশি করে পানি পান করা।
  • বাদাম, অঙ্কুরিত ছোলাও খেতে পারেন। 

ওজন কমানোর জন্য খাবারের প্রতি যত্নশীল হওয়া খুবই জরুরী। বিশেষ করে কোন খাবার খেলে ওজন কমে যায় সেদিকটা লক্ষ্য করা উচিত। 

রাতে কি খেলে ওজন কমে?

সারাদিন কাজে ব্যস্ত থাকার পরে অনেকে রাতের বেলায় যা খুশি তাই খায় তবে রাতের বেলায় কিছু খাবার নিয়ন্ত্রণ করে চললেই ওজন কমে যাবে। যেমন: 

  • রাতে বা দিনের যেকোনো সময় মেথি দিয়ে চা খেতে পারেন। এটি দ্রুত হজম শক্তি বাড়ায় ও ফ্যাট বার্ন করে। 
  • আলু খাওয়া তবে কম খেতে হবে কারণ আলুতে শর্করা আছে যা ওজন বাড়ায়। 
  • খাবারে ভিন্নতা আনা। প্রতিদিনকার খাবারে ভিন্নতা আনবেন।
  • রঙিন ফল খাওয়া। এর মানে এক সঙ্গে বিভিন্ন ধরনের ফাইটোনিউট্রিয়েন্ট খাবার গ্রহণ করা। লাল, সবুজ, নীল, হলুদ, বাদামী, সাদা বিভিন্ন ধরনের ফল যথা আপেল, সবুজ আপেল ও আঙুল, কিশমিশ,  কমলা ও আনারস ও কলা খাওয়া।
  • পিনাট বাটার

 

 

তথ্যসূত্র : হেলথলাইন, ফোর্বস, ওয়েবএমডি, ইন্টারনেট

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published.

This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.

Back to top button