মোবাইলের ব্যাটারি ভালো রাখার উপায়

ad for top in BD

আজকে আবার নতুন একটি কনটেন্ট নিয়ে তোমাদের সামনে হাজির হলাম। এই কনটেন্টটিতে আলোচনা করবো মোবাইলের ব্যাটারি তাড়াতাড়ি শেষ হয়ে যাওয়ার কারণ ও মোবাইলের ব্যাটারি ভালো রাখার উপায়গুলো সম্পর্কে।

মোবাইলটা চার্জ করার কিছুক্ষন পরেই ব্যাটারি লো!!! কি করে সম্ভব? একবার ব্যাটারি চার্জ করার খুব তাড়াতাড়ি ব্যাটারী শেষ হয়ে যায়। আর আপনি বুঝতে পারছেন না কেন আপনার ব্যাটারি এত তাড়াতাড়ি শেষ হয়ে যাচ্ছে? আপনি খুঁজে বেড়াচ্ছেন তার কারণগুলো? তাহলে আর চিন্তা করবেন না আজকে আমি এই কনটেন্টটিতে মোবাইলের ব্যাটারি ভালো রাখার উপায়গুলো নিয়ে কথা বলব। এবং জানতে পারবেন কি করে আপনার ব্যাটারি লাইফ কে বাড়াতে পারবেন।

আমরা না জেনে এমন কিছু কিছু কাজ করে ফেলি যেগুলো জন্য আমাদের মোবাইলের ব্যাটারি তাড়াতাড়ি শেষ হয়ে যায়। আর এই কারণগুলোর একবার জানলে আমাদের মোবাইলের ব্যাটারি কে আবার আমরা রিকভার করতে পারব। আর এই সমস্ত ভুলগুলো আপনারা যদি এড়াতে পারেন তাহলে দেখবেন আর মোবাইলকে বেশি চার্জ দিতে হচ্ছে না। একবার চার্জ করলে অনেকক্ষণ আপনারা ব্যবহার করতে পারছেন সেটিকে।

এই সমস্ত ভুল গুলো আমরা সব ফোনে করে থাকি। এখন সময় এসেছে এগুলো শুধরে নেওয়ার। তাহলে আজকের বিষয়টি শুরু করা যাক।

মোবাইলের ব্যাটারি ভালো রাখার উপায়গুলো

বার বার মোবাইল চার্জে দেওয়াঃ

আমাদের অনেকেরই অভ্যাস এটা যে মোবাইলের চার্জ একটু কমে গেলেই আবার সেইটা চার্জে দেওয়া। এটা যেকোনো মোবাইল ব্যাটারির জন্য অনেক ক্ষতিকর। বারবার চার্জে দিলে ব্যাটারির সব সেল ঠিক মত ডিসচার্জ হতে পারে না। তাই এই অব্যবহৃত সেলগুলো ধিরে ধিরে নষ্ট হয়ে যায়। কোন এমারজেন্সি ছাড়া মোবাইলের চার্জ ২০% এর নিচে না নামলে সেটি চার্জে দেওয়া থেকে বিরত থাকুন।

ভাইব্রেশন মোডঃ

প্রথমে আমি ভাইব্রেশন মোড সম্বন্ধে বলবো। আপনাকে যখন কেউ ফোন করে বা আপনি যখন কাউকে মেসেজ টাইপ করেন বা ফোনে কোন নোটিফিকেশন আসলে আপনারা হয়তোবা খেয়াল করেছেন ফোনটি ভাইব্রেট হতে থাকে।

বন্ধুরা আর আমরা জানতেও পারিনা এই ভাইব্রেশন আপনাদের ফোনের ব্যাটারি কে ধীরে ধীরে ক্ষয় করে ফেলছে। তাই আপনারা এখনই সেটিং-এ গিয়ে ভাইব্রেশন মোড অফ করে নিন এর ফলে আপনার ব্যাটারিটা অনেকক্ষণ সঞ্চিত হবে।

নোটিফিকেশন অন রাখাঃ

ফোনের ব্যাটারীর চার্জ তারাতারি শেষ হওয়ার অনেক কারনের মধ্যে নোটিফিকেশন একটি। যা আমাদের মোবাইলের ব্যাটারির চার্জ কে খানিকটা হলেও কমিয়ে দেয়। তাই বন্ধুরা প্রয়োজনীয় অ্যাপ্লিকেশনের নোটিফিকেশন ছাড়া অন্য কোন আজেবাজে অ্যাপ্লিকেশনের নোটিফিকেশন আপনারা অন করে রাখবেন না।

এই নোটিফিকেশন শুধুমাত্র আপনার ব্যাটারি চার্জ কে নষ্ট করে না সঙ্গে সঙ্গে আপনার বিরক্তির কারণও বটে। এই নোটিফিকেশন গুলো যখন আপনার মোবাইলে আসে তখন সঙ্গে সঙ্গে আপনার মোবাইলের স্ক্রিন টি অন হয়ে যায় ।

ফলে সেখান থেকে ব্যাটারি চার্জ কমতে থাকে। তাই নোটিফিকেশন মোড অফ করার সঙ্গে সঙ্গেই আপনাদের ব্যাটারি লাইফ বাড়বে।

অটো সিঙ্কঃ

সত্যি কথা বলতে অটো সিঙ্ক খুব ভালো একটি ফিচার। কিন্তু আমরা অনেকেই এই বিষয়টা জানিনা আর না জেনেই অটো সিঙ্ক অন করে রাখি। তো যারা আমরা জানি না তারা অটো সিঙ্ক অফ করে দিন।

বন্ধুরা এই অটো সিঙ্ক এর ফলে আপনার মোবাইল অফ থাকা অবস্থাও যদি ইন্টারনেট কানেকশন থেকে থাকে তাহলে নিজে নিজেই অটো সিঙ্ক করে আপনার সমস্ত ডেটা গুলোকে গুগল ড্রাইভে পাঠিয়ে দেয় ফলে অটোমেটিকলি কাজ হতে থাকে ।

তার ফলে আপনার মোবাইলে চার্জও ক্ষয় হতে থাকে। তাই ফোনের ব্যাটারী লাইফ বাড়ানোর জন্য এই ফিচারটির কোনো প্রয়োজন নেই, তাই সোজাসুজি সেটিং এ গিয়ে একাউন্ট নামে অপশনে সিঙ্ক বলে অপশন পেয়ে যাবেন সেখান থেকে অফ করে দিন।

স্ক্রিন ব্রাইটনেসঃ

বন্ধুরা আপনারা হয়তো জানেন না মোবাইলের ব্যাটারি শেষ হওয়ার পেছনে এবং মোবাইল গরম হয়ে যাওয়ার পেছনে ব্রাইটনেস একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ। অনেক এমন লোক আছেন যারা ব্রাইটনেস টিকে খুব বেশি করে দেয় অর্থাৎ ৭০ শতাংশের বেশি।

আর এই ব্রাইটনেস এর জন্য কিন্তু আমাদের ব্যাটারি ধীরে ধীরে ক্ষয় হতে থাকে। ফলে ব্যাটারি LOW হতে শুরু করে। তো বন্ধুরা যখন বাড়িতে থাকবেন তখন মোবাইলের ব্রাইটনেস কে সবসময় LOW রাখার চেষ্টা করবেন।

তার ফলে আপনাদের চোখের ভাল হবে এবং আপনার মোবাইলের ব্যাটারির জন্য উপকার দায়ক। আর বাইরে যখন বেরোবে তখন হয়তোবা মাঝে মাঝে ব্রাইটনেস HIGH এর প্রয়োজন হবে। কিন্তু ব্রাইটনেস খুব বেশি দিলে সেটি বেশিক্ষণ ব্যবহার করবেন না যা মোবাইলের ব্যাটারি ভালো রাখার অন্যতম উপায়।

ব্যাকগ্রাউন্ড অ্যাপস:

এরপরে আমি মোবাইলের ব্যাটারি ভালো রাখার উপায় হিসেবে ব্যাকগ্রাউন্ড অ্যাপস নিয়ে কথা বলবো। বন্ধুরা এর সম্বন্ধে আমরা খুব একটা বেশী জানিনা। কিন্তু জানেন কি এটা খুব গুরুত্বপূর্ণ আপনার মোবাইলের ব্যাটারির জন্য। আমরা একদিনে অনেকগুলো অ্যাপস ব্যবহার করে থাকি।

এমনও অনেক অ্যাপস আছে যেগুলো আমরা একবার দুইবার ইউজ করি কিন্তু সে গুলোকে আমরা ক্লোজ করে রাখিনা। ফলে সেই অ্যাপস গুলো কিন্তু ব্যাকগ্রাউন্ডে রান হতে থাকে।

এগুলো শুধু আমাদের মোবাইল চার্জ কে নষ্ট করে না আমাদের ইন্টারনেট গুলোকেও ওরা নষ্ট করতে থাকে। তাই কোন অ্যাপস ব্যবহার করার পর অ্যাপসগুলোকে ক্লোজ করে দিন। এর ফলে আপনারা ব্যাটারি লাইফের ভালো চেঞ্জ দেখতে পাবেন।

ওয়াইফাই অন রাখাঃ

ওয়াইফাই কিন্তু আমাদের মোবাইলের ব্যাটারির চার্জ কে ক্ষয় করে দেয়। আমরা অনেকেই এরকম আছে যারা শুধুমাত্র ওয়াইফাই ব্যবহার করে থাকি। কিন্তু ওয়াইফাই বন্ধ করতে ভুলে যায় যখন বাইরে আমরা বেরোয়।

এটা শুধু আপনাদের সঙ্গে না এটা আমার সঙ্গে হয়ে থাকে কিন্তু আমি সময় পেলেই বা মনে থাকলেই আমি বন্ধ করে দি । এখন যদি আপনারা ওয়াইফাই কে অন করে রাখেন তাহলে বাইরে যখন যান তখন ওই ওয়াইফাই আপনার বাইরের জগতের হটস্পট কে অটোমেটিক্যালি সার্চ করতে থাকে।

তার জন্য আপনার মোবাইলের চার্জ কমতে থাকে আর আপনি বুঝতে পারেন না কেন ব্যাটারি লো দেখাচ্ছে। তাই বাইরে বেরোলে অবশ্যই ওয়াইফাই কে অফ করে বেরোবেন।

সরাসরি রোদের ভিতরে ফোন ব্যবহার করাঃ

এই ভুলটা আমরা অনেকেই করে থাকি। আমরা খারা রোদ্রের মধ্যে এমন একটা জায়গায় মোবাইল ব্যবহার করি যেখানে খুব বেশি গরম এলাকা ।

কিন্তু বন্ধুরা এরম অবস্থায় আমাদের মোবাইল বেশিক্ষন ঘাটা যাবে না। লক্ষ্য করে থাকবেন এই সমস্ত এলাকায় মোবাইল ঘাটার সঙ্গে সঙ্গে মোবাইলটা খুব তাড়াতাড়ি গরম হয়ে যায়।

শুধু গরমই না এই গরমের সঙ্গে সঙ্গে আপনার মোবাইলের চার্জও কমতে থাকে। তাই সব সময় এরকম জায়গা গুলোকে অ্যাভয়েড করবেন যেখানে খুব বেশি গরম।

জিপিএস অন রাখাঃ

আমি এমন ও মানুষ দেখেছি যারা জিপিএস একেবারে ইউজ করেনা কিন্তু তাও জিপিএস কে মোবাইলে অন করে রাখে। তারা বুঝতে পারে না এই জিপিএস অন করার ফলে মোবাইলে কিন্তু ইন্টারনেটের সঙ্গে সঙ্গে ব্যাটারি টা ডাউন করতে থাকে।

তাই বন্ধুরা আপনারা শীঘ্রই জিপিএস কে বন্ধ করে দিন। আবারো বলছি যদি প্রয়োজন হয় তাহলে চালান যেটুকু প্রয়োজন সেটুকু চালিয়ে বন্ধ করে দিন। এর ফলে আপনার মোবাইলের চার্জ অনেকক্ষণ যাবৎ চলবে। এই সমস্ত ছোটখাটো বিষয় গুলোর ফলে আমাদের ব্যাটারির কিন্তু চার্জ কমতে থাকে।

অটো রোটেশন অপশন অন রাখাঃ

আপনি সম্মত হন কিনা তা আমি জানি না, তবে এটি প্রমাণিত হয়েছে যে অটো রোটেশন চালু করার ফলে আপনার মোবাইল ফোনের ব্যাটারি চার্জ ধীরে ধীরে হ্রাস পাবে। তাই প্রয়োজন ছাড়া অটরোটেশন অন করে রাখবেন না।

মোবাইলের ডেটা অন রাখাঃ

ভালো কিন্তু এটা ব্যবহার করলে আপনার মোবাইলের ডেটা তো বাচবে কিন্তু আপনার মোবাইলের চার্জ কিন্তু ধীরে ধীরে কমতে থাকবে। যেই অ্যাপসটা খুব বেশি ব্যবহার করেন সেখানে আপনি শুধুমাত্র ডাটাগুলোকে সঞ্চিত করে রাখতে পারেন। বাকিগুলোর কোন প্রয়োজন নেই। এটি করার ফলে আপনার মোবাইলের চার্জ অনেকক্ষণ যাবৎ চলবে।

অটো-আপডেটঃ

বন্ধুরা শেষে যে কথাটি বলবো সেটি হচ্ছে অটো-আপডেট এটি অন করা থাকলে আপনার মোবাইলের ব্যাটারি চার্জ কিন্তু ধীরে ধীরে কমতে থাকবে।

বন্ধুরা কারণ এই অটো-আপডেট আপনাদের প্রতিদিনই প্রায় হয়ে থাকে ফলে এটি আপনার মোবাইল ডাটার সঙ্গে সঙ্গে আপনার ব্যাটারিকেও ক্ষয় করে ফেলে। তাই অটো আপডেট আপনার বন্ধ করাই ভাল হবে।

কোন কিছুর আপডেটের প্রয়োজন হলে গুগল প্লে স্টোরে গিয়ে সেই অ্যাপসটি লিখে সার্চ করবেন তাহলেই আপডেট পেয়ে যাবেন।

শেষ কথাঃ

তো বন্ধুরা এই ছিল আমাদের করা ছোট খাটো কিছু ভুলের কারনে আমাদের মোবাইলের ব্যাটারি খুব তাড়াতাড়ি শেষ হয়ে যায়। যে গুলো শুধরে নিলে আমরা মোবাইলের ব্যাটারির ধারণক্ষমতা অনেকক্ষণ যাবৎ বজায় রাখতে পারব। এগুলো ফলো করবেন আপনাদের মোবাইল ব্যাটারির দ্রুত শেষ হয়ে যাওয়ার অসুবিধা দূর হয়ে যাবে।

এই ছিল আমাদের আজকের টপিক। আশা করি আপনাদের অনেক উপকারে লাগবে। কনটেন্টটি কেমন লেগেছে দয়া করে কমেন্ট বক্সে জানাবেন।

Leave a Comment