অ্যাপটিপস এবং ট্রিকভিটমেট অ্যাপ

আসল ভিটমেট অ্যাপ ডাউনলোড করুন যেকোনো ডিভাইসে

ভিটমেট, বর্তমানে সবচেয়ে জনপ্রিয় মোবাইল অ্যাপ গুলোর একটি। মূলত গান ও ভিডিও ডাউনলোডের জন্য বিখ্যাত হলেও এই অ্যাপটির সাহায্যে করা যায় আরো বহু কিছু। এক অ্যাপের সাহায্যেই আপনি মিটিয়ে ফেলতে পারবেন আপনার মোবাইল ভিত্তিক বিনোদনের সিংহভাগ। অবাক করা ব্যাপার হলো গুগল প্লে স্টোরে না থাকা সত্ত্বেও এই অ্যাপটি প্রায় সকলেই চেনে ও ব্যবহার করে। ৯৮৯২৬৪ সংখ্যক ব্যবহারকারীর ভোট পেয়েও এটির রেটিং ৪.৯/৫। তবে অনেক ব্যবহারকারীই এর সকল সুবিধা সম্পর্কে অবগত নয়। আর তাই আজকের লেখাটিতে ভিটমেটের সকল সুবিধাসহ এর আদ্যপান্ত আলোচনা করা হয়েছে। ভিটমেটের সুবিধার কমতি নেই। এর সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো অ্যাপটি সম্পূর্ণ ফ্রী। পুরোপুরি বিনামূল্যে আপনি উপভোগ করতে পারবেন অসংখ্য মুভি, ওয়েব সিরিজ, গান, ভিডিও থেকে শুরু করে আরো নানা কিছু। চলুন জানা যাক কি কি সুবিধা রয়েছে এই অ্যাপটিতে।

সূচিপত্র

ভিটমেট অ্যাপ এর সুবিধা

নিজস্ব সার্ভার

ভিটমেটের রয়েছে নিজস্ব সার্ভার। এই সার্ভারে আপনিও খুলতে পারবেন একাউন্ট এবং নিজের মতো সাজিয়ে নিতে পারবেন নিজের ফিড (Feed) কে। এটি অনেকটা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম গুলোর মতই। আপনি আপনার পছন্দমতো চ্যানেল বা মানুষকে ফলো করতে পারবেন। আবার নিজেও ভিডিও আপলোড দিতে পারবেন। অন্যান্য সাইটের অগুণিত ভিডিওর বাইরে শুধু ভিটমেটের নিজস্ব সার্ভারেই ভিডিও ও অডিওর সংখ্যা নেহায়েত কম নয়।

ইন-বিল্ট ব্রাউজার (In-Built Browser) ও ভিডিও ডাউনলোড

ভিটমেট অ্যাপটির মাঝেই রয়েছি একটি ব্রাউজার। ফলে অন্য কোন ব্রাউজার ব্যবহার না করেই আপনি ঘুরে দেখতে পারবেন যেকোনো সাইট। শুধু তাই নয় ভিডিও বা অডিও নামাতে পারবেন প্রায় ১০০০ এর অধিক সাইট থেকে। এর মাঝে উল্লেখযোগ্য হলো ইউটিউব, ফেসবুক, টুইটার, টরেন্ট, ১২৩ মুভিজ, ডেইলিমোশন, ওয়াটসঅ্যাপ, টিকটক,। অর্থাৎ বলতে গেলে ইন্টারনেটের বেশিরভাগ বিনোদনমূলক ভিডিওই নামানোর সুব্যবস্থা রয়েছে এটিতে।

লাইভ চ্যানেল

ভিটমেটে রয়েছে টিভি চ্যানেলগুলো লাইভ দেখার সুব্যবস্থা। জি টিভি, স্টার ওয়ার্ল্ড, সাহারা অনলাইন, চ্যানেল ফাইভ সহ ২০০ এর অধিক চ্যানেল লাইভ দেখতে পারবেন এটিতে। বলতে গেলে টিভির প্রয়োজনই মিটিয়ে দিচ্ছে এটি।

বিভিন্ন ফরম্যাট ও কোয়ালিটি

এতে রয়েছে বিভিন্ন ফরম্যাটে ভিডিও ও অডিও নামানোর সুবিধা। আবার ভিডিও অথবা অডিও কোয়ালিটির ও পরিবর্তন করতে পারবেন আপনি। Mp3, Mp4, M4A ফরম্যাটের পাশাপাশি প্রয়োজনে ২৫০পিক্সেল হতে শুরু করে নামাতে পারবেন এমনকি 4k ভিডিও।

অধিক ডাউনলোড স্পিড

ভিটমেটের অন্যতম সুবিধা হলো এর ডাউনলোড স্পিড। এটি সাধারণ ব্রাউজার হতে কখনো কখনো ৫ গুণ দ্রুতও ডাউনলোড করতে পারে। বিশেষ প্রযুক্তির সাহায্যে ভিটমেট ডাউনলোড স্পিড যথাসম্ভব বাড়ানোর চেষ্টা করে থাকে। অর্থাৎ স্পষ্টতই বুঝতে পারছেন ‘এক এর ভিতর সব’ এর উৎকৃষ্ট উদাহরণ এটি। ভিটমেট ইন্সটলের মাধ্যমে আরো অনেক অ্যাপ ইন্সটলের আর প্রয়োজনই পড়ে না। ফলে মোবাইলের প্রচুর মেমরি বাঁচে। সাথে কাজ ও করা যায় দ্রুত। তবে এক অ্যাপের মাঝে এত কিছু থাকায়, মানিয়ে নিতে কিছুটা সময় লাগবে। এর উত্তর হলো, হ্যাঁ। ভিটমেট অ্যাপটি সম্পূর্ণ নিরাপদ। ভিটমেটের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠাটা খুবই স্বাভাবিক। কারণ এটি গুগল প্লে স্টোরে নেই। প্লে স্টোর তাদের অনুমতি দেয় নি। কিন্তু সেটা নিরাপত্তা জনিত কোন কারণে নয়। ভিটমেট ইউটিউব সহ আরো নানা সাইট থেকে ফ্রী তে ভিডিও ডাউনলোডের সুযোগ করে দেয়। যা প্লে স্টোরের নীতিমালা বিরোধী। ঠিক এই কারণেই ভিটমেট গুগল প্লে স্টোর হতে ইন্সটল করা যায় না। আলাদা সাইটে গিয়ে করতে হয়। তবে ফ্রীতে এত সুবিধা নিতে চাইলে এটুকু কষ্ট তো করতে হবেই। ভিটমেট যেহেতু গুগল প্লে স্টোরে পাওয়া যায় না। তাই লেখাটিতে এটি ইন্সটল করার উপায় বর্ণনা করা হলো। মনে রাখতে হবে যে ভিটমেটের মতো দেখতে আরো অসংখ্য অ্যাপ রয়েছে যা ইন্সটল করলে কাজ তো হবেই না বরং ফোনের ক্ষতি হতে পারে। তাই আসল ভিটমেট নামাতে নির্দেশনা গুলো অক্ষরে অক্ষরে পালন করুন।

মোবাইলে কিভাবে ভিটমেট অ্যাপটি ডাউনলোড ও ইন্সটল করবেন?

ধাপ ০১ঃ অফিসিয়াল ওয়েবসাইট হতে ডাউনলোড করা

প্রথমেই আপনার ফোনের গুগল ক্রোম অথবা অন্য কোন ব্রাউজার চালু করুন। চালু হওয়ার পরে গুগল বা অন্য কোন সার্চ ইঞ্জিনে গিয়ে ‘Vidmate Official’ লিখে সার্চ করুন। তাহলেই নিচের চিত্র ‘১’ এর মতো একটি দৃশ্য দেখতে পাবেন। আসল/অরিজিনাল ভিডমেট অ্যাপস ডাউনলোডের ধাপঃ ১ এবার চিত্র ‘১’ এর লাল বক্স দ্বারা চিহ্নিত স্থানে চাপ দিন। অতঃপর নিচের দৃশ্যটি দেখতে পাবেন। এটিই ভিটমেটের অফিসিয়াল সাইট। তবে আপনি যদি সার্চ করা ছাড়াই সরাসরি অফিসিয়াল সাইটে যেতে চান তাহলে ব্রাউজারের সার্চ বারে (Search Bar) এ ‘vidmateapp.com’ লেখাটি লিখুন। সরাসরি সাইটে পৌছে যাবেন। আসল/অরিজিনাল ভিডমেট অ্যাপস ডাউনলোডের ধাপঃ ১। চিত্র ২ চিত্র ‘২’ এর ‘Official Download’ লেখা স্থানে চাপ দিন। চাপ দেওয়ার পর পরই ডাউনলোড শুরু হয়ে যাবে অথবা নিচের চিত্র ‘৩’ এর মতো একটি সাবধান বাণী দেখাবে। যেখানে বলা হবে এই ধরনের ফাইল আপনার মোবাইলের ক্ষতি করতে পারে। এটি অস্বাভাবিক কিছু নয়। গুগলের নীতিমালা অনুযায়ী যেকোনো এপিকে (APk) ফাইল ডাউনলোড করতে চাইলেই এমন সাবধান বাণী দেখাবে। কারণ আসলেই ভুল এপিকে ফাইল নামালে তা মোবাইলের ক্ষতির কারণ হতে পারে। কিন্তু আপনি অফিসিয়াল সাইট হতে নামাচ্ছেন। তাই ভয়ের কিছু নেই। আসল/অরিজিনাল ভিডমেট অ্যাপস ডাউনলোডের ধাপঃ ১ | চিত্রঃ ৩ যেহেতু এটি নিরাপদ তাই চিত্র ‘৩’ এর লাল বক্স দ্বারা চিহ্নিত ‘Ok’ লেখা স্থানে চাপ দিন। ডাউনলোড শুরু হয়ে যাবে। ডাউনলোড শেষ হওয়ার পর নিচের চিত্র ‘৪’ এর মতো একটি দৃশ্য দেখাবে। আসল/অরিজিনাল ভিডমেট অ্যাপস ডাউনলোডের ধাপঃ ১ | চিত্র ৪

ধাপ ০২ঃ ভিটমেট ইন্সটলের জন্য প্রয়োজনীয় অনুমতি প্রদান

ডাউনলোড হওয়ার পরে এবার ইন্সটল করার পালা। ভিটমেট ইন্সটল করতে চিত্র ‘৪’ এর লাল বক্স দ্বারা চিহ্নিত ‘Open’ লেখা স্থানে ক্লিক করুন। তাহলেই ডাউনলোড করা এপিকে ফাইলটি হতে ভিটমেট ইন্সটল শুরু হয়ে যাবে। কিন্তু প্রথমবার এরুপ এপিকে হতে অ্যাপ ইন্সটল করতে গেলে একটি সমস্যার সম্মুখীন হবেন। নিচের চিত্র ‘৫’ এর মতো আরেকটি সাবধান বাণী দেখাবে যার মানে হলো নিরাপত্তাজনিত কারণে অজানা উৎস হতে অর্থাৎ এপিকে ফাইল হতে কোন অ্যাপ ইন্সটল করা যাবে না। এটিও গুগল আপনার ফোনের নিরাপত্তার জন্যই করে থাকে। কিন্তু যেহেতু ভিটমেট নিরাপদ তাই এই অবস্থার পরিবর্তন করতে চিত্র ‘৫’ এর লাল বক্স দ্বারা চিহ্নিত ‘Settings’ এ চাপ দিন। আসল/অরিজিনাল ভিডমেট অ্যাপস ডাউনলোডের ধাপঃ ২ | চিত্রঃ ৫ চিত্র ‘৫’ এর ‘Settings’ এ চাপ দিলেই আপনাকে নিচের চিত্র ‘৬’ এর মতো সিকিউরিটি (Security) অপশনে নিয়ে যাবে। চিত্র ‘৬’ এর লাল বক্স দ্বারা চিহ্নিত Unknown Sources এর পাশের বাটনটি চালু করে দিন। আসল/অরিজিনাল ভিডমেট অ্যাপস ডাউনলোডের ধাপঃ ২ | চিত্রঃ ৬ বাটনটি চালু করে দেওয়া মাত্রই নিচের চিত্র ‘৭’ এর মতো আরেকটি সাবধান বাণী দেখাবে। এবার চিত্র ‘৭’ এর লাল বক্স দ্বারা চিহ্নিত ‘Ok’ তে চাপ দিন। আসল/অরিজিনাল ভিডমেট অ্যাপস ডাউনলোডের ধাপঃ ২ | চিত্রঃ ৭

ধাপ ০৩ঃ ভিটমেট ইন্সটল করা

সকল অনুমতি প্রদানের পর এপিকে ফাইল হতে ভিটমেট ইন্সটল করতে প্রথমেই চলে যান আপনার ব্রাউজারের ডাউনলোড সেকশনে। সেখানেই ভিটমেটের এপিকে ফাইলটি পেয়ে যাবেন। অথবা ফাইল ম্যানেজারের এপিকে সেকশনে গিয়েও খুঁজে দেখতে পারেন। ফাইলটি পাওয়ার পরে তাতে ক্লিক করুন। নিচের চিত্র ‘৮’ এর মতো ইন্সটল করার প্রক্রিয়া চালু হয়ে যাবে। আসল/অরিজিনাল ভিডমেট অ্যাপস ডাউনলোডের ধাপঃ ৩ | চিত্রঃ ৮ ইন্সটল করার প্রক্রিয়া পুরোপুরি শুরু করতে চিত্র ‘৮’ এর লাল বক্স দ্বারা চিহ্নিত ‘Install’ বাটনে চাপ দিন। কিছুক্ষণ অপেক্ষা করুন। ইন্সটল হলে নিচের চিত্র ‘৯’ এর মতো একটি দৃশ্য দেখতে পাবেন। আসল/অরিজিনাল ভিডমেট অ্যাপস ডাউনলোডের ধাপঃ ৩ | চিত্রঃ ৯ চিত্র ‘৯’ এর লাল কালি দ্বারা চিহ্নিত ‘Open’ বাটনে চাপ দিলেই ভিটমেট অ্যাপটি চালু হয়ে যাবে।

ধাপ ০৪ঃ স্টোরেজ (Storage) ব্যবহারের অনুমতি প্রদান

ভিটমেট অ্যাপটি ব্যবহার করতে চাইলে অবশ্যই এটিকে স্টোরেজ পারমিশন দিতে হবে। অর্থাৎ আপনার ফোনের যায়গা অর্থাৎ মেমরি ব্যবহারের অনুমতি দিতে হবে। এটি মূলত ডাউনলোড করা ফাইলগুলো রাখার জন্য এবং অন্যান্য ছবি অথবা মিডিয়া ফাইলগুলো দেখার অনুমতি। শুধু ভিটমেট নয় বরং প্রায় সকল অ্যাপই এই অনুমতি চেয়ে থাকে। এমনকি নিত্যদিনের ব্যবহৃত ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ অথবা সাধারণ ব্রাউজার ও। ভিটমেট অ্যাপটি চালু করলেই এটি স্টোরেজ ব্যবহারের অনুমতি চাইবে। অনুমতি দিতে নিচের চিত্র ‘১০’ এর লাল বক্স দ্বারা চিহ্নিত ‘Allow’ বাটনে চাপ দিন। ব্যাস, এবার আপনার ভিটমেট অ্যাপটি ব্যবহারের জন্য প্রস্তুত। আসল/অরিজিনাল ভিডমেট অ্যাপস ডাউনলোডের ধাপঃ ৪ | চিত্রঃ ১০

ভিটমেটের অ্যাপের ব্যবহার

লেখার শুরুতেই ভিটমেটের বহুমুখী ব্যবহারের কিছুটা বর্ণনা দিয়েছি। তবে এই অংশে ভিটমেট অ্যাপটির প্রত্যেকটি অংশ নিয়ে আলোচনা করবো। ফলে আপনারা অ্যাপটির পূর্ণ ব্যবহার বিধি জানতে পারবেন।

ভিটমেট অ্যাপের বিভাগ সমূহ

ভিটমেট অ্যাপের রয়েছে বেশ কিছু ভাগ। একেকটি ভাগে আপনি একেক ধরনের জিনিস পাবেন। ভাগগুলো নিচে তুলে ধরছিঃ

  • ফিচারড (Featured)
  • মিউজিক (Music)
  • মুভি (Movie)
  • অ্যাপ (App)
  • স্ট্যাটাস (Status)
  • ইমেজ (Image)
  • ফানি (Funny)
  • ফিল্ম (Film)
  • ড্যান্স (Dance)
  • টিভি শো (TV Show)

মূলত এই ১০টি ভাগে রয়েছে ভিন্ন ভিন্ন বিনোদন। ভাগগুলোর নাম পড়লেই অনেকটা বোঝা যায় যে এতে কি থাকবে। তাই সবকটি নিয়ে আলোচনা না করে মূল ভাগ গুলো নিয়ে আলোচনা করবো।

ফিচারড

এই ভাগটিতে মূলত ভিটমেটের জনপ্রিয় কন্টেন্ট (Content) গুলো থাকে। ভিটমেট থেকেই কিছু ভিডিও বা গানকে নির্ধারণ করে দেওয়া হয় যা অ্যাপটি খুললেই চোখে পড়ে। মূলত এই নির্দিষ্ট অডিও, ভিডিও গুলোই হলো ফিচারড।

মিউজিক

মিউজিক অর্থাৎ গান। এই ভাগটি ভিটমেট অ্যাপের যাবতীয় গানের জন্য নির্দিষ্ট করা। এখানে আপনি শুধু গানের অডিও যেমন পাবেন তেমনি গানের ভিডিও ও পাবেন। অনলাইনে গান শুনতে পারবেন অথবা দেখতে পারবেন। চাইলে নামিয়েও নিতে পারবেন। আবার একইসাথে এখানে থেকে নামিয়ে নিতে পারবেন পছন্দ মতো রিংটোনও। নিচের চিত্র ‘১১’ হলো ভিটমেট অ্যাপের মিউজিক সেকশন। চিত্র ‘১১’ এর লাল বক্স দ্বারা চিহ্নিত ‘Album & Song’ সেকশনটি হলো নানা অ্যালবামের জন্য নির্দিষ্ট করা। এ অংশটিতে গেলে আপনি গানের শুধু অডিও পাবেন। তবে অ্যালবাম হিসাবে থাকায় গান নামানোর জন্য অনেকটাই সুবিধাজনক এটি। ভিডমেট অ্যাপসে মিউজিক

মুভি

মুভি অর্থাৎ সিনেমার জন্য ভিটমেট একটি সেরা অ্যাপ। সিনেমার জন্য ভিটমেট অ্যাপে রয়েছে দুটি ভাগ। ‘Movie’ ও ‘Film’। মুভি ভাগটি মূলত মুভি ডাউনলোড করার জন্য। এখানে প্রায় সব ধরনের মুভিই পাওয়া যায়। হলিউড থেকে শুরু করে, বলিউড, টলিউড (তামিল মুভি) মোট ছয়টি মুভি ইন্ডাস্ট্রি, ১২ টি ভাষা, ১৫ টি জনরা (genre) এর মুভি নামাতে পারবেন ভিটমেট থেকে। প্রয়োজনে সার্চ করার পূর্বে সাল ও নির্দিষ্ট করে দিতে পারবেন। ফলে সার্চ করা হবে অনেকটাই সহজ। নানা ধরনের এতসব মুভি হতে নির্দিষ্ট মুভি খুঁজে নিতে চিত্র ’১২’ এর লাল বক্স দ্বারা চিহ্নিত ‘Filter’ নামক বাটনে চাপ দিয়ে কি ধরনের মুভি চান তা নির্দিষ্ট করে দিলেই নিজের মন মতো মুভি খুঁজে নিতে পারবেন। ভিডমেট অ্যাপসে মুভি এর আরেকটি সুবিধা হলো প্রত্যেকটা মুভিরই ৭২০ পিক্সেল ও ১০৮০ পিক্সেল রেজুলেশনে টরেন্ট ফাইল অ্যাপটিতে দেওয়া থাকে। যার ফলে টরেন্টের সঠিক ফাইল খুঁজে পাওয়ার ঝামেলা পোহাতে হবে না একদমই। ভিডমেট অ্যাপসে মুভি চিত্রঃ ২

অ্যাপস

অ্যাপস সেকশনটিতে বেশিরভাগই মূলত নানা ধরনের গেমস। গেমস নামানোর জন্য এটিকে গুগল প্লে স্টোরের একটা বিকল্পই বলা যেতে পারে। রয়েছে একশন, রেসিং, স্পোর্টস, সিমুলেশন, ক্যাজুয়াল, রোল প্লেয়িং, অ্যাডভেঞ্চার সহ আরো নানা ক্যাটাগরির গেমস। তবে শুধু গেমসই নয় অন্যান্য দরকারি অ্যাপ ও আছে এটিতে। কোন কারণে গুগল প্লে স্টোর ব্যবহার করতে না পারলে অথবা সেখানে কোন অ্যাপ না পেলে ভিটমেটের অ্যাপ সেকশনে খুঁজে দেখতে পারেন।

ফিল্ম

ফিল্ম নামক সেকশনটি মুভি সেকশনেরই অনুরূপ বলা যায়। তবে পার্থক্য হলো এখানে মুভি ডাউনলোড নয় বরং সরাসরিই দেখা যায়। তবে খুব বেশি সংখ্যক মুভি নেই এখানে। বরং এটাকে বলা চলে ইউটিউবের কিছুটা বিকল্প। নানা ধরনের ট্রেইলার, মিউজিক ভিডিও থেকে শুরু করে অগণিত ভিডিও দেখতে পারবেন ফিল্ম নামক বিভাগটি হতে।

টিভি শো

হালের ফ্যাশন হলো টিভি শো। বর্তমানে অধিকাংশ মানুষই মুভির পাশাপাশি সমান তালে টিভি শো বা টিভি সিরিজ দেখছে। ভিটমেটেও এই সুবিধা রয়েছে। বিশেষ করে বাংলাদেশের প্রচুর মানুষের পছন্দের কে ড্রামা বা কোরিয়ান ড্রামা দেখতে পারবেন ভিটমেটে। কোরিয়ান ড্রামার পাশাপাশি রয়েছে জাপানি ড্রামাও। এমনকি রয়েছে আমাজন প্রাইম এ প্রচারিত মুভি ও টিভি শো গুলো। টিভি শো, ওয়েব সিরিজ এসবের পাশাপাশি রয়েছে রিয়েলিটি শো, গেম শো হতে শুরু করে হিন্দি ও ইংরেজি কার্টুন অবধি। এছাড়াও ভিটমেট অ্যাপটিতে রয়েছে আরো কয়েকটি বিভাগ। একটু ঘুরে দেখলেই সেগুলোর কার্য্রক্রম বোঝা খুব কঠিন কিছু হবে না। তাই এবারে আমরা জানবো কিভাবে বিভিন্ন ফরম্যাটে ভিডিও অথবা অডিও ডাউনলোড করতে হয়।

ভিটমেটঃ সেরা ইউটিউব ডাউনলোডার

ভিটমেটের সাহায্যে প্রায় ১০০০ এর বেশি সাইট হতে ভিডিও ডাউনলোড করা যায়। তবে প্রত্যেকটি সাইট হতে ভিডিও ডাউনলোডের উপায় একইরকম হওয়ায় শুধু ইউটিউব হতে ডাউনলোড করা শিখতে পারলেই আপনারা যেকোনো সাইট হতে ডাউনলোড করতে পারবেন। তাই এই লেখাতে ইউটিউব হতে ভিডিও ডাউনলোডের পন্থাই লেখা হয়েছে। ইউটিউব হতে ডাউনলোডের মূলত দুটি উপায় রয়েছে: ১) সরাসরি ইউটিউব অ্যাপ হতে কোন ভিডিওর লিংক কপি করে সেখান থেকে ডাউনলোড করা। ২) ভিটমেট অ্যাপের বিল্ট-ইন ব্রাউজারের সাহায্যে ইউটিউবে ঢুকে সেখান থেকে ডাউনলোড করা। সাধারণত মানুষ ইউটিউবে ভিডিও দেখতে দেখতে হটাৎ কোন ভিডিও ডাউনলোডের প্রয়োজন পড়লে তবেই সেটা ডাউনলোড করে। সেক্ষেত্রে আবার ভিটমেটের ব্রাউজার দিয়ে সেটি সার্চ করে বের করাটা একটু ঝামেলাদায়ক। সেই ঝামেলা এড়াতে ইউটিউবের যেকোনো ভিডিওর নিচে ‘Share’ নামক অপশনে চাপ দিন। নিচের চিত্র ‘১৪’ এর মতো অনেকগুলো অপশন দেখতে পাবেনঃ সেরা ইউটিউব ডাউনলোডার ভিডমেট চিত্রঃ ১ উপরের চিত্রের লাল বক্স দ্বারা চিহ্নিত ‘Copy Link’ বাটনে চাপ দিলেই ভিডিওর লিংকটি কপিড (Copied) হয়ে যাবে। এবার ভিটমেট অ্যাপটি চালু করুন। ভিটমেট চালু হওয়ার পর ভিটমেটের সার্চ বারে আপনার কপিকৃত লিংকটি পেস্ট (Paste) করে সার্চ করুন। তাহলেই নিচের চিত্র ‘১৫’ এর মতো ভিডিওটি দেখতে পাবেন। সেরা ইউটিউব ডাউনলোডার ভিডমেট চিত্রঃ ২ উপরের চিত্র ‘১৫’ এর মাঝে লাল বক্স দ্বারা চিহ্নিত ডাউনলোড আইকনে চাপ দিন। সাথে সাথে চিত্র ‘১৬‘ এর মতো আরেকটি উইন্ডো খুলে যাবে। সেরা ইউটিউব ডাউনলোডার ভিডমেট চিত্রঃ ৩ এখানে দেখুন প্রথমে ‘Music’ ও পরে ‘Video’ অপশন রয়েছে। অর্থাৎ কেউ চাইলে ভিডিও হতে শুধু মিউজিক বা অডিও ডাউনলোড করতে পারে আবার চাইলে পুরো ভিডিওটাও ডাউনলোড করতে পারে। প্রত্যেকটি সারিতে প্রথমে অডিও ও ভিডিওর মান, এরপর তার ফরম্যাট ও সবশেষে আকার দেওয়া আছে। আপনার পছন্দ অনুযায়ী যেকোনো একটি বেছে নিতে পারেন। তবে অডিও এর জন্য M4A ফরম্যাটটি ভাল। তবে এর সমস্যা হলো এটি সকল ডিভাইস (Device) এ চলে না। তাই সব ডিভাইসে চালাতে চাইলে Mp3 ডাউনলোড করতে পারেন। আর ভিডিওর ক্ষেত্রে পিক্সেল যত বেশি, মান তত ভাল। একইসাথে আকার ও তত বেশি। চিত্র ‘১৬‘এর ‘১’ দ্বারা চিহ্নিত ‘Change’ লেখা স্থানে চাপ দিয়ে ফাইলটি মোবাইলের কোথায় ডাউনলোড হবে তা ঠিক করা যায়। এ সম্পর্কে বিস্তারিত পরে বলা হয়েছে। ডাউনলোড করতে ‘২’ দ্বারা চিহ্নিত স্থানে চাপুন। ব্যাস! শুরু হয়ে যাবে আপনার ডাউনলোড। মোবাইলের নোটিফিকেশন বারে দেখতে পারবেন কতটুকু হলো ডাউনলোড। এছাড়াও ইউটিউব হতে লিংক কপি-পেস্ট করে ডাউনলোড করতে না চাইলে সরাসরি ভিটমেটের ব্রাউজার ব্যবহার করে আর ১০ টা ব্রাউজারের মতো সার্চ করেই ডাউনলোড করতে পারবেন যেকোনো ভিডিও।

ভিটমেটের সেটিংস ও অন্যান্য

যেকোনো অ্যাপের সঠিক ভাবে চালাতে গেলে এর সেটিংস সম্পর্কে জানা খুব জরুরী। ভিটমেট চালাতে গেলে অনেকেই অনেক সমস্যার সম্মুখীন হন। যেমন ভাষা বুঝতে না পারা, উলটা পালটা যায়গায় মুভি। গান ডাউনলোড হওয়া, একসাথে অনেক ডাউনলোড না হওয়া, ভিডিও কোয়ালিটি খারাপ আসা, বিরক্তিকর নোটিফিকেশন আসা ইত্যাদি। আজকের লেখার এই অংশটিতে এ সব কিছুর সমাধান সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে।

ভিটমেট একাউন্ট

ভিটমেটে রয়েছে নিজস্ব একাউন্ট খোলার সুব্যবস্থা। একাউন্ট খুলতে অ্যাপটি অন করে নিচের দিকে খেয়াল করলেই পাশাপাশি ‘Home’. ‘My Files’ ও ‘Me’ নামক তিনটি বাটন দেখা যাবে। ‘Me’ নামক অংশে চাপ দেওয়া মাত্রই নিচের চিত্রটি দেখতে পাবেন। ভিডমেট একাউন্ট তৈরি চিত্র ‘১৭‘ এর ‘১’ দ্বারা চিহ্নিত ‘Sign In’ নামক অংশে চাপ দেওয়া মাত্রই আপনাকে একটি একাউন্ট খুলতে বলা হবে। খুব সহজেই ফোনের গুগল একাউন্টের সাহায্যে আপনি ভিটমেটের একাউন্টটি খুলে ফেলতে পারবেন। এর ফলে যেই লাভটি হবে তা হলো, অন্য কোন মোবাইল থেকেও চাইলে আপনার ভিটমেট একাউন্টে ঢুকতে পারবেন এবং আপনার নিজস্ব ফীড চালাতে পারবেন। আবার সব কিছু গোড়া থেকে শুরু করতে হবে না। চিত্র ‘১৭‘ তে আরো বেশ কিছু অপশন দেখা যাচ্ছে। ‘২’ দ্বারা চিহ্নিত বক্সটির মাঝে অনেকগুলা অপশন দেখা যাচ্ছে। এর মাঝে ‘History’ তে চাপ দিলে আপনার একাউন্ট দিয়ে কি কি সার্চ করা হয়েছে ও দেখা বা ডাউনলোড করা হয়েছে সবকিছুর তালিকা পাবেন। ‘Private Files’ এ চাপ দিলে আপনাকে ’Calculator Lock’ নামক একটি অ্যাপ ইন্সটল করতে বলা হবে। এটি আসলে ফোনের ফাইল সমূহ গোপন করার একটি অ্যাপ। যা সাধারণ ক্যালকুলেটরের মতোই ব্যবহার করা যায়। কিন্তু পাসওয়ার্ড টাইপ করলে গোপনীয় ফাইল গুলো দেখাবে। অর্থাৎ নিজের ফোনের যেকোনো ছবি, ভিডিও, অডিও লুকিয়ে রাখার জন্য এটি একটি চমৎকার অ্যাপ। এছাড়াও ‘My Files’ এ চাপ দিলে আপনার নামানো যাবতীয় ফাইল দেখাবে। ‘Favorite’ ও ‘Liked’ সেকশনে আপনার লাইক করা ও ফেবারিট করে রাখা অডিও ভিডিও দেখাবে। এছাড়া ‘Sites’ এ চাপ দিলে ইউটিউব, ফেসবুকের মতো অন্যান্য সাইট ব্যবহারের সুযোগ পাবেন।

কন্টেন্ট সেটিংস (Content Settings)

চিত্র ‘১৭‘ এর ৩ দ্বারা চিহ্নিত ‘Settings’ এ চাপ দিলে অ্যাপটির সেটিংস এ যাবেন। যা নিচের চিত্র ‘১৮‘ এর মতো। ভিডমেটে কন্টেন্ট সেটিংস সেটিংস সেকশনে পর্যায়ক্রমে নানা রকম অপশন দেওয়া আছে। এর মাঝে চিত্র ‘১৮‘ এর ‘১’ দ্বারা চিহ্নিত ‘Content’ এ চাপ দিলেই আপনি পর্যায়ক্রমে তিনটি অপশন পাবেন। নিচের চিত্র ‘১৯‘ এর ‘১’ দ্বারা চিহ্নিত স্থানে চাপ দিয়ে আপনি ভিটমেট অ্যাপের ভাষা পরিবর্তন করতে পারবেন। ‘২’ দ্বারা চিহ্নিত অপশনের সাহায্যে দেশ পরিবর্তন করতে পারবেন। অর্থাৎ অ্যাপটি কোন দেশের প্রেক্ষিতে চলবে তা ঠিক করতে পারবেন। এবং ‘৩’ দ্বারা চিহ্নিত অপশনের সাহায্যে ‘Restricted Mode’ চালু করতে পারবেন। এটি করলে সার্চ দেওয়ার পরেও ভিটমেটে আর কোন অশ্লীল জিনিস দেখাবে না। ভিডমেটে কন্টেন্ট সেটিংস চিত্রঃ ২

ডাউনলোড সেটিংস (Download Settings)

চিত্র ‘১৮‘ এর ‘২’ দ্বারা চিহ্নিত অপশন হলো ‘Download’ অপশন। এখানে ডাউনলোড সংক্রান্ত যাবতীয় সেটিংস এর পরিবর্তন করা যায়। ‘Download’ চাপ দেওয়ার পরেই নিচের চিত্রটি দেখতে পাবেন। ভিডমেট অ্যাপসে ডাউনলোড সেটিংস চিত্র ‘২০‘ এর ১ দ্বারা চিহ্নিত অপশনটি হলো ‘Download path setting’। এখানে চাপ দিলেই আপনি নিচের চিত্র ‘২০‘ এর মতো আরেকটি দৃশ্য দেখতে পাবেন। এখান হতে ডাউনলোডকৃত ফাইল গুলো ফোনের কোথায় জমা হবে তা নির্ধারণ করা যাবে। এক্ষেত্রে চাইলে চিত্র ‘২১‘ এর ‘১’ দ্বারা চিহ্নিত স্থানে চাপ দিয়ে নতুন একটি ফোল্ডার খোলা যাবে। নতুন ফোল্ডার খুলে বা আগের যেকোনো ফোল্ডার পছন্দ করে ‘২’ দ্বারা চিহ্নিত ‘Select Folder’ অপশনে চাপ দিলেই সেই ফোল্ডারটি ডাউনলোড করা ফাইল রাখার জন্য নির্ধারিত হয়ে যাবে। তবে যদি আপনার ফোনে মেমরি কার্ড থেকে থাকে তাহলে সেখানেও ফাইল রাখতে পারবেন। ডাউনলোড সেটিংস ২ চিত্র ‘২০‘ এর ‘২’ দ্বারা চিহ্নিত বাটনটি চালু করে দিলে ডাউনলোড শুধুমাত্র ওয়াই-ফাই ব্যবহার করে হবে। অর্থাৎ ভুলে মোবাইল ডাটা ব্যবহারের ঝুকি থাকবে না। ‘৩’ দ্বারা চিহ্নিত অপশনে চাপ দিলে একসাথে কয়টি ডাউনলোড করতে পারবেন তা নির্ধারণ করতে পারবেন। ‘৪’ দ্বারা চিহ্নিত অপশন এ চাপ দিলে প্রতিটি ডাউনলোডের জন্য অ্যাপটি কয়টি উৎস ব্যবহার করবে তাও নির্ধারণ করতে পারবেন। সাধারণত ৪টি নির্ধারণ করা থাকে। ‘৫’ দ্বারা চিহ্নিত অপশনে চাপ দিয়ে আগের বন্ধ হয়ে যাওয়া ডাউনলোড স্বয়ংক্রিয়ভাবে চালু হবে নাকি আপনি নিজে থেকে চালু করবেন তা নির্ধারণ করে দিতে পারবেন। ‘৬’ দ্বারা চিহ্নিত অপশনে চাপ দিয়ে সাবটাইটেল কোন ভাষায় নামবে তা নির্ধারণ করতে পারবেন। ‘৭’ দ্বারা চিহ্নিত অপশনে চাপ দিয়ে মিউজিক তথা অডিও কেমন মানের ডাউনলোড হবে তাও ঠিক করতে পারবেন। সাধারণত ‘Medium’ অর্থাৎ মধ্যম মান নির্ধারণ করা থাকে। চাইলে এটিকে ‘High’ এ সেট করতে পারেন। মূলত এইগুলোই ভিটমেটের গুরুত্বপূর্ণ সেটিংস। এর বাইরে অ্যাপটি ব্যবহার করতে করতে আরো ভাল ধারণা পাবেন।

কম্পিউটার ভিটমেট ভিটমেট সফটওয়্যার ডাউনলোড ও ইন্সটল করার নিয়ম

আপনি চাইলে কম্পিউটারেও ব্যবহার করতে পারবেন এই অল রাউন্ডার সফটওয়্যার ভিটমেট। তবে সেক্ষেত্রে কিছুটা কাঠ খড় পোড়াতে হবে। যেহেতু এই অ্যাপটির কোন অফিসিয়াল (Official) কম্পিউটার ভার্সন নেই তাই এই সফটওয়্যারটি চালাতে হলে আপনাকে আলাদা করে এন্ড্রয়েড ইমুলেটর ইন্সটল করতে হবে। এন্ড্রয়েড ইমুলেটর গুলো মূলত এমন এক ধরনের সফটওয়্যার যা ব্যবহার করে কম্পিউটারকে মোবাইলের মত করে ব্যবহার করতে পারবেন। ইন্টারনেটে অসংখ্য ইমুলেটর আছে। কিন্তু ভিটমেটের অফিসিয়াল সাইটে বলা হয়েছে ইমুলেটর হিসেবে ব্লুস্টাকস (Bluestacks) ব্যবহার করতে। আমরা তাই করছি।

ধাপ ০১ঃ ব্লুস্টাক ডাউনলোড

ব্লুস্টাকস ডাউনলোড করতে কম্পিউটারের যেকোনো ব্রাউজার খুলে গুগল এ চলে যান। সেখানে ‘bluestakcs’ লিখে সার্চ করুন। অথবা সরাসরি ব্রাউজারের সার্চ বারে https://www.bluestacks.com/ লিখলেও চলবে। ব্লুস্টাকের ওয়েবসাইট নিচের চিত্র ‘২১‘ এর মতো হবে। কম্পিউটার ভিডমেট ডাউনলোড ও ইন্সটল করার নিয়ম ধাপঃ ১ চিত্র ‘২২‘ এর লাল বক্স দ্বারা চিহ্নিত ‘Download BlueStacks’ বাটনে চাপ দিন। তারপর চিত্র ‘২৩‘ দেখতে পাবেন। কম্পিউটার ভিডমেট ডাউনলোড ও ইন্সটল করার নিয়ম ধাপঃ ১ | চিত্রঃ ২ চিত্র ‘২৩‘ এর লাল বক্স দ্বারা চিহ্নিত ‘Save As’ বাটনে চাপ দিন। অতঃপর ফাইলটি কোথায় ডাউনলোড করবেন তা ঠিক করুন। কম্পিউটার ভিডমেট ডাউনলোড ও ইন্সটল করার নিয়ম ধাপঃ ১ | চিত্রঃ ৩ চিত্র ‘২৪‘ এর লাল বক্স দ্বারা চিহ্নিত ‘Save’ বাটনে চাপ দিলেই নির্ধারিত স্থানে ডাউনলোড সম্পন্ন হবে। অতঃপর সেই স্থানে গিয়ে ফাইলটিতে ডাবল ক্লিক করুন। সেটিকে চালু হওয়ার অনুমতি দিন। কম্পিউটার ভিডমেট ডাউনলোড ও ইন্সটল করার নিয়ম ধাপঃ ১ | চিত্রঃ ৪ উপরের চিত্র ‘২৫‘ হলো ব্লুস্টাকের ইন্সটলেশন উইন্ডো (Installation Window)। এর সাহায্যে আপনি ব্লুস্টাক ইন্সটল করতে পারবেন। তবে সরাসরি ‘Install Now’ তে চাপ না দিয়ে লাল বক্স দ্বারা চিহ্নিত ‘Customize Installation’ এ চাপ দিন। অতঃপর নিচের চিত্র ‘২৬‘ দেখতে পাবেন। কম্পিউটার ভিডমেট ডাউনলোড ও ইন্সটল করার নিয়ম ধাপঃ ১ | চিত্রঃ ৫ উপরের চিত্র ‘২৬‘ এর ‘১’ দ্বারা চিহ্নিত ‘Folder’ নামক স্থানে চাপ দিয়ে সফটওয়্যারটি কোথায় ইন্সটল হবে সেটি নির্ধারণ করুন। এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই সফটওয়্যারের মাধ্যমে ডাউনলোড হওয়া সমস্ত ফাইল সেখানেই জমা হবে। সরাসরি ‘Install Now’ এ চাপ দিলে সফটওয়্যারটি সি ড্রাইভে ইন্সটল হতো। ফলে আপনার মূল্যবান বুট ড্রাইভের অনেক যায়গা নষ্ট হতো। অবশেষে ইন্সটল এর প্রক্রিয়া চালু করতে চিত্রের ‘২’ দ্বারা চিহ্নিত ‘Install Now’ বাটনে চাপ দিন। চাপ দেওয়ার পরে নিচের মতো একটি চিত্র দেখতে পাবেন। অর্থাৎ ইন্সটল করার প্রয়োজনীয় ফাইলসমূহ ডাউনলোড হচ্ছে। ডাউনলোড না হওয়া অবধি অপেক্ষা করুন। কম্পিউটার ভিডমেট ডাউনলোড ও ইন্সটল করার নিয়ম ধাপঃ ১ | চিত্রঃ ৬ ডাউনলোড হওয়ার পর ব্লুস্টাক নিজে নিজেই ফাইলগুলো এক্সট্রাক্ট (Extract) করবে ও ইন্সটল করে ফেলবে। অতঃপর নিজে থেকেই ব্লুস্টাক চালু হয়ে যাবে। ব্লুস্টাকের হোম স্ক্রিন নিচের চিত্রটির মতো। কম্পিউটার ভিডমেট ডাউনলোড ও ইন্সটল করার নিয়ম ধাপঃ ১ | চিত্রঃ ৮ উপরের চিত্র ‘২৮‘ এর লাল বক্স দ্বারা চিহ্নিত অংশে চাপ দিয়ে ‘Vidmate’ নামটি লিখে সার্চ করতে হবে। কম্পিউটার ভিডমেট ডাউনলোড ও ইন্সটল করার নিয়ম ধাপঃ ১ | চিত্রঃ ৮ সার্চ রেজাল্ট দেখতে পাচ্ছেন উপরের চিত্র ‘২৯‘ এ। অবশেষে চিত্র ‘২৯‘ এর লাল বক্স দ্বারা চিহ্নিত অংশে মাউসের কার্সর নিলেই ‘Install’ লেখাটি ভেসে উঠবে। চাপ দিলেই শুরু হয়ে যাবে ইন্সটল প্রক্রিয়া।

আইফোনে ভিটমেট ব্যবহারের নিয়ম

আইফোন তথা আইওস (iOS) এর জন্য আসলে ভিটমেটের কোন ভার্সন নেই। এবং অ্যাপল তার ব্যবহারকারীরা কি কি অ্যাপ ব্যবহার করতে পারবে তার বিষয়ে একটু বেশিই কঠোর। তবে একটি উপায়ে চাইলে আইফোন ব্যবহারকারীরাও ভিটমেট ব্যবহার করতে পারেন। তবে সেক্ষেত্রে প্রয়োজন হবে আইফোনের জেইলব্রেক (Jailbreak) করা। বাংলাদেশে এটি ফোন রুট করা নাম পরিচিত। আইফোন জেলব্রেক করতে পারলে আপনি চাইলেই ভিটমেট ব্যবহার করতে পারবেন। তাই আইফোনে ভিটমেট ব্যবহার করতেঃ

  • ধাপ ১ঃ আইফোন জেলব্রেক বা রুট করুন।
  • ধাপ ২ঃ উল্লেখিত লিংক ( https://drive.google.com/file/d/1O-s2QrRArEV0rVwri0DB92byuqOpfB6F/view ) এ যেয়ে আইওস এর জন্য ভিটমেটের Apk ফাইল ডাউনলোড করুন।
  • ধাপ ৩ঃ স্বাভাবিক ভাবেই ভিটমেট ইন্সটল করুন। ইন্সটলের পরে ব্যবহার করুন। বাকি ব্যবহারবিধি একইরকম। এছাড়া চাইলে আপনি অ্যাপল এর কম্পিউটার গুলোতেও ব্লুস্টাক এন্ড্রয়েড ইমুলেটর ইন্সটল করে ভিটমেট ব্যবহার করতে পারবেন। সর্বোপরি এটা নিশ্চিত ভাবে বলা যায় যে, ভিটমেট অ্যাপটি যেমন জনপ্রিয় তেমনই কার্যকরী। প্রয়োজনে একাউন্ট খুলে ব্যবহার করতে পারবেন ভিন্ন ভিন্ন মোবাইল এমনকি কম্পিউটারেও। এক অ্যাপের মাঝে সকল বিনোদন খুজতে চাইলে এর চেয়ে ভাল অ্যাপ আর হয় না। আর তাই যদি হয়ে থাকে আপনার চাহিদা, তাহলে আজই এই লেখা অনুসরণ করে নামিয়ে ফেলতে পারেন অ্যাপটি।

সচারাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী

১। ভিটমেট অ্যাপ আন-ইন্সটল করলে সমস্ত ডাউনলোড করা ফাইল মুছে যায়। ফাইল গুলো রক্ষার্থে কী করতে পারি?

উত্তরঃ এটা হওয়ার কারণ ডাউনলোড করা সমস্ত ফাইল ভিটমেটের নিজস্ব ফোল্ডারে থাকে। তাই ভিটমেট আন-ইন্সটল করলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সব মুছে যায়। এটি হতে পরিত্রাণ পেতে ফাইল ম্যানেজার ব্যবহার করে সমস্ত ফাইল অন্য আরেকটি ফোল্ডারে সরিয়ে রাখুন।

২। ভিটমেটের নোটিফিকেশন মাঝে মাঝে আমাকে বিব্রত করে। নোটিফিকেশন কিভাবে বন্ধ করবো?

উত্তরঃ প্রতিদিন নিত্যু নতুন নোটিফিকেশন আসা বন্ধ করতে অ্যাপটির সেটিংস এ চলে যান। সেখানে ‘Push Notifications’ নামক অপশনে গিয়ে নোটিফিকেশন আসা বন্ধ করতে পারেন।

৩। ভিটমেট চালু করলে প্রায়ই বিজ্ঞাপণমূলক নানা ভিডিও দেখায়। এটি বন্ধ করবো কিভাবে?

উত্তরঃ এটি বন্ধ করার উপায় নেই। ভিটমেট যেহেতু বিনামূল্যে সকল সুবিধা দেখিয়ে থাকে তাই তাদের বিজ্ঞাপণের সাহায্যেই অর্থ আয় করতে হয়।

৪। ভিটমেটের কি ডার্ক মোড আছে? থাকলে চালু করবো কিভাবে?

উত্তরঃ জ্বী, আছে। ডার্ক মোড চালু করতে অ্যাপটির সেটিংস এ যান। এরপর ‘Other Settings’ এ যান। অতঃপর ‘Night Mode’ লেখা অপশনটিতে চাপ দিলেই ডার্ক মোড চালু হয়ে যাবে।

৫। ডার্ক ও লাইট মোডের ব্রাইটনেস (Brightness) কিভাবে নির্ধারণ করবো?

উত্তরঃ ভিটমেট অ্যাপের ব্রাইটনেস বাড়াতে কমাতে ‘Other Settings’ এ গিয়ে ‘Adjust Brightness’ অপশনে চাপ দিয়ে ব্রাইটনেস নির্ধারণ করুন।

৬। ভিটমেটে স্বয়ংক্রিয় ভাবে ভিডিও চলা বন্ধ করতে চাই। কিভাব করবো?

উত্তরঃ ভিটমেটে স্বয়ংক্রিয় ভাবে ভিডিও চালু হওয়া বন্ধ করতে অ্যাপটির সেটিংস এ গিয়ে ‘Other Settings’ এ যান। সেখানে ‘Auto Play Videos’ অপশন হতে বন্ধ করে দিন।

৭। ভিটমেট কি গুগল প্লে স্টোরে আসবে?

উত্তরঃ অদূর ভবিষ্যতে এর সম্ভাবনা নেই। বিনামূল্যে বিভিন্ন সাইট হতে ভিডিও ডাউনলোডের কারণে এটিকে গুগল প্লে স্টোরে অনুমতি দেওয়া হয় নি। কিন্তু এটি না করলে ভিটমেটের প্রধান আকর্ষণ হারিয়ে যাবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.

Back to top button